কৌস্তুভ দে সরকারের বন্য প্রেমের গল্প--
বৃষ্টিরাতের গল্প |
আস্তে, আস্তে সোনা, অত তাড়াহুড়োর কিছু নেই। আমি তোমার জন্যই এসেছি। যতক্ষণ পারো, যেভাবে পারো, নাও আজকে। তাড়াহুড়ো করতে নেই সবসময়। এটা তাড়াহুড়োর বিষয় নয়। ধীরে ধীরে ইস্তেমাল করতে হয়। এই তো, এইখানে, হ্যাঁ, এইভাবে। ঘাড়ে দাও। আ: ..."
শমিত শর্মির ঘাড়ের পাশের চুল সরিয়ে ঠোঁট নাক মুখ ঘষতেই ক্রমশঃ তেতে ওঠে শর্মি । শমিতের ঠোঁটের জাদুতে ক্রমে আগুন লেগে যায় ওর ইচ্ছের আদিম জঙ্গলে। চায় ওকে যতপারে আজ আদর করুক শমিত। বাড়িতে অনুষ্কা নেই। দু চারদিনের জন্য গিয়েছে ডায়মন্ডহারবারে, তার বাপের বাড়িতে। আর এই ফাঁকে অনেক দিনের জমানো ইচ্ছেটাকে খুশিমতো ভোগ করে নিতে চায় ওরা।
আরো বেশি উদ্দাম হয়ে ওঠে শমিত। ওকে এক ঝটকায় বুকের কাছে টেনে নিয়ে শর্মি বলে, আজকে অনেক আদর করবে আমায়। ঠিক আছে? একেবারে সাত জন্মের আদর। যেন এই কয়েক মুহূর্তের কথা সারাজীবন মনে রেখে আনন্দে কাটিয়ে দিতে পারি। শমিত বেশ গরম হয়ে পড়েছে যেন। ওর ফর্সা কান দুটো লাল। দেখে শর্মি বলে, তুমি কি কোনো টেনশন নিচ্ছ? আরে বোকা, এখানে আমরা দুজন ছাড়া আর কে আছে, বলোতো? কে আসবে এখানে? আর তাছাড়া আজ তো আমি সারারাত থাকব তোমার কাছে। বাড়িতে বলে এসেছি, শতাব্দীর বাড়ি যাচ্ছি। আজকে থাকবো ওখানে, আর শতাব্দীকেও বলে দিয়েছি আমি তোর বাড়ির নাম করে অন্য কোথাও থাকব, কেউ ফোন টোন করলে তুই ব্যাপারটা ম্যানেজ করে নিস। শমিত শর্মিকে জড়িয়ে ধরে বলে, আসলে তা না। ভয়টা অন্য কোনোখানে। শুয়ে শুয়ে পরস্পরকে আদর করতে করতে শর্মি বলে, কিসের ভয়, বলো। বলো আমাকে।
শমিত একটু সাহস জোগাড় করে বোকার মতোই বলে, ভয় পাচ্ছি, তোমাকে স্যাটিসফাই করতে পারব তো আজ রাতে?
- এটা একটা দারুন কথা বলেছ। এই জন্য তোমাকে আমার দারুন মিষ্টি লাগে। তুমি বেশ অভিনয় জানো। আর ভালোবাসা আদায় করে নাও এইভাবে। আরে বাবা ওখানে না, এইখানে হাত দাও, এখানে... এখানে।"
শমিত শর্মির পিরামিডের ডগায় আঙ্গুল বুলাতে বুলাতে বলে, আসলে কি জানো? অনুষ্কার সাথে দীর্ঘদিন কাজ না করে করে মনে হয় ঠিকমতো আর পারব না কোনোদিন। ও আমাকে একপ্রকার অবদমিত করে রেখেছে। একতরফা চাইতে চাইতে আর একটিং করতে করতেই ওই সমস্ত ইচ্ছা চলেই গেছিল প্রায়। তোমার সাথে ইনবক্সে কথা বলে যতটুকু আগ্রহ জন্মালো। তবে হ্যাঁ, আমার আসল জায়গাটায় ছুঁলে বা আদর করলে বা বরফ চুষে দিলেই আমি জেগে উঠব, তখন কিন্তু মারাত্মক ব্যাপার হয়ে যাবে।"
- আরে বাবা, পুরুষ মানুষকে কিভাবে জাগাতে হয় শর্মি ভালো করে জানে। তুমি একদম কোনো টেনশন করবে না। শুধু নীরবে সমর্পণ করে দাও আমার কাছে। তোমার চাওয়াগুলোকে আজ দ্যাখো আমি কতটা ফুলফিল করে দিতে পারছি। তবে হ্যাঁ, তারপর কিন্তু আর কোনোদিন এসবের জন্য আবার পাগলামি কোরো না যেন। অনুষ্কা ফিরে এলে এইসব একদম শেষ। আজকের রাতটুকু আমাদের চূড়ান্তভাবে কাছে পাবার রাত। শুধু এইটুকুই। তারপর সব কিন্তু শেষ।
- শেষ মানে? তুমি আর যোগাযোগ রাখবে না? তার মানে ফাঁকি দিতে চাইছ আমাকে?
- আরে বাবা, না , না । তুমি সবকিছু এত সিরিয়াসলি নাও কেন বলোতো? আমি কি সেকথা বলেছি নাকি? বলছি এসব আর করা যাবে না এই রকম ভাবে। এভাবে। বলে শমিতের বুকের মাঝখানে একটা চুমু খায় শর্মি। শমিত চোখ বন্ধ করে উপভোগ করার চেষ্টা করে। বলে, আমার জীবনে তুমি ধ্রুবতারার মতো। তোমার ভালোবাসা আর সবকিছু যে এভাবে পাবো, ভাবতেই পারিনি কোনো দিন।
পুরুষেরা এক নারীতে সন্তুষ্ট থাকে না কখনো। সে তো আমি বুঝি। আর বুঝি বলেই সেদিন তোমাকে অ্যাকসেপ্ট করেছি। আর তুমিও তো কিছু কথার পরেই অকপটে বলে দিলে, ভালোবাসি। ব্যস, তাতেই আমার বুকের সব বরফ গলে গেল। আর আজ দ্যাখো, আমি তোমার সঙ্গে এক বিছানায় শুয়ে আছি। আসলে অনুপ চলে যাবার পর আমি বড় উপবাসী আছি। আর এই একলা জীবন বয়ে বেড়াতে ভালোও লাগে না। তোমার সাথে কথা বলে এত টাই ইম্প্রেসড হয়ে গেছি, তোমার আমার অভাববোধটা মনে হল যেন একই। তোমার যেমন থেকেও কিছু নেই, আর আমার তো নেইই। তাই ভাবলাম, চলো, ঠিকই আছে। কথা বলতে বলতে কানের লতির মধ্যে হাল্কা কামড় দিয়ে চুমু খেতে খেতে শমিতকে আদর করছিল শর্মি। শমিত ভাবতেই পারছিল না ও এত দিন অনুষ্কার কাছে যেভাবে যেভাবে আদর পেতে চেয়েছিল, শরীরের সুখ পেতে চেয়েছিল সেই সেভাবেই শর্মি ভরিয়ে দিচ্ছে ওকে সব কিছুর মাধ্যমে সবখানে।
শর্মি বলে, দ্যাখো আমি কেমন ভোগ করতে পারছি আজ তোমাকে। কাঁদিয়েও দিতে পারি আদরে আদরে।
ওকে বুকের মধ্যে আরেকবার টেনে চেপে ধরে শমিত বলে, এটাই তো চাই সোনা। এভাবেই তোমাকে পেতে চাই আজ। শরীরের সুখে আজ সত্যিকারের কাঁদতে চাই প্রাণ ভরে।
শর্মি বলে, এ শুধু তোমার সমস্যা নয় বাবু। এ তো আমাদের সমাজের সমস্যা। আমরা বলি না, মেয়েদের বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না। ব্যাপারটা পুরুষদের ক্ষেত্রেও। কিন্তু আমরা একবারও সেটা ভাবি না। সবাই ভাবে, শরীরের চাহিদা শুধু মেয়েদের। এক তরফা। পুরুষ শুধু নারীকে ভোগ করবে। কিন্তু পুরুষও তো কিছু পেতে চায়। তাকেও কেউ উপভোগ করুক। সুখ দিক সমান্তরাল ভাবে। নিজেকে সেভাবে নারীর কাছে ভোগ্য হয়ে উঠতে কজন পারে? চলো, দেখি কেমন করে আজ শেষ করে দিতে পারি তোমায়।
শর্মি প্রায় দশ মিনিট ধরে চুষতে থাকে শমিতের ঠোঁট।
পুরোপুরি জেগে ওঠে শমিত। দারুন লাগে ওর শর্মির এই আগ্রাসী ভূমিকা। সারাজীবন এমন একটা সুখের রাত চেয়ে এসেছে ও, যেখানে ও শুধু দাতা নয়, গ্রহীতাও বটে। একদম টানটান উত্তেজনায় ওকে কাঁপিয়ে দিক অনুষ্কা, চেয়েছিল ও। কিন্তু বউ মনে হয় এরকমই হয়। কথা বললেও কথা শোনে না। এসব ব্যাপারে কেমন যেন দায়সারা, উদাসীন। খুব একটা আগ্রহই নেই। ইনফ্যাক্ট বউরা সবসময় চায় স্বামীই তাকে আদর করুক, ভোগ করুক। এই একতরফা পারফরম্যান্সে হাঁফিয়ে উঠেছিল সে। বিছানার যুদ্ধক্ষেত্রে এক অসম লড়াই করতে করতে ক্লান্ত এক হতাশ পুরুষ। আজকের চাদরটায় এক অন্যরকম উত্তাপ দিচ্ছে শর্মি। সেই একই ঘর, একই বিছানা, চাদর, বালিশ, শুধু অন্য একটা শরীরের উপস্থিতিতেই কি পরিস্থিতি এতটা পাল্টে যেতে পারে? ভাবতে পারে না শমিত। শর্মি ততক্ষনে পুরোদমে ওর ঝকঝকে শরীরের ফর্সা রুপোলি ডানার ঝটপটানিতে প্রায় নাস্তানাবুদ করে দিতে শুরু করে দিয়েছে। শমিতের ভিতরের পুরুষ ক্রমাগত দাবানল ছড়াচ্ছে তার রহস্যময় শিকড়ের ভেতরে। শমিত পাগল হয়ে উঠছে শর্মির নরম মাংসের লোভাতুর আবেদনে। আজ বুঝি ঘুমিয়ে পড়তে দেবে না ওকে শর্মি। কোমরের নীচের দিকে মুখ নামাতে নামাতে শর্মি বাঘিনীর মতো কামড়ে ধরে ওর প্রকৃত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। একসময় কেঁপে কেঁপে ওঠে
শমিত। সারারাত কতবার যে এভাবে শর্মি ওর উপর উঠেছে বসেছে মনেও নেই শমিতের। কখন যে ভোর হয়ে আসে। সকালে কাজের মাসি বেল বাজাতেই ওপরের জানলা খুলে মাসিকে বলে দেয় সে, মাসি আজ তো ও বাড়িতে নেই। আজ তোমার ছুটি। তুমি বরং একেবারে পরশু দিন এসো। আমি আজ আরো অনেকক্ষণ ঘুমোবো।
No comments:
Post a Comment