পুরানো সে দিনের কথা... মিত্রাণী আদক বাইরে অঝোর বৃষ্টি, গাড়িবারান্দার এসবেস্টসের ছাদে বৃষ্টির ফোঁটাগুলো বেশ সুরেলাভাবে ঝমঝম শব্দ তুলে অবিরাম ঝরে যাচ্ছে।লালমাটি ধোওয়া ঘোলা জল আঁকাবাঁকা পথে দ্রুত বয়ে যাচ্ছে ঢালু পাতকুয়ার দিকে।আজন্ম ফ্ল্যাটবাড়িতে বেড়ে ওঠা দুইবেণী ঝোলানো খুদেমেয়ের কাছে সবই যে নতুন।বড় বড় চোখ মেলে অপার আগ্রহে যতটা পারে গেঁথে নিচ্ছে মনের ভিতরে, বাড়ি ফিরে সহখেলুড়েদের কাছে গল্প করতে হবে না। হাতে ধরা একগোছা কাগজের নৌকা বানভাসি হবার অপেক্ষায় থেকে থেকে নেতিয়ে পড়েছে অনেকক্ষন আগেই। মনেই নেই তাদের জলে ভাসিয়ে দেবার কথা। তখনই ঝপাং! অনেকটা জল ছিটকে এসে ভিজিয়ে দিল মায়ের হাতে মিকি মাউস এমব্রয়ডারি করা সাদা লেসফ্রকটাকে। দুরন্ত মারকুটে সহখেলুড়েটিকে বকার সাহস নেই, অতএব চেঁচিয়ে মা ওমা, ও কাকীমণি ডাকতে গিয়ে ঘুমটা ভেঙে গেল।চল্লিশোর্ধ্ব ঘুমভাঙ্গা চোখে বিনা চশমাতেই স্পষ্ট সেই দুষ্টুচোখো হাসিমুখ।তার বয়সটা কিন্তু সেই একই আছে। আস্তে আস্তে আবছা হয়ে আসে,আজ বাইরে বৃষ্টি নেই, বৃষ্টি নেমেছে দু চোখের পাতায়, টুপ টাপ। - মা, ওমা,কি হয়েছে? - কিছু হয়নি তো, ঠান্ডা লেগেছে বোধহয়। নাকি পাওয়ার বেড়েছে চোখের।বুঝতে পারছি না। আত্মজার ডাকে ঘুমভাঙা চোখে সকাল জাগে। আজ সকাল থেকেই কেমন মনখারাপ করা মেঘলা আকাশ। ঝলকে ঝলকে বৃষ্টি। সকাল থেকেই মন আনমনা।কেন যে হয় এমন। টুকিটাকি ঘরসংসারের কাজ মিটিয়ে জানলার সামনে এসে দাঁড়াই। এক কাপ চা হাতে বাইরে তাকাতেই দেখি, উঁচুনীচু হলুদ মাটি, কতদিনের পুরানো গাছ চারপাশে ঘিরে আছে। তলায় নিরাপদে বাড়ছে নতুন চারার দল।যত হলুদ আর বাদামী পাতা ঝরে ঝরে স্তূপ হয়ে আছে পায়ের তলায়। চোখের সামনে ভেসে ওঠে এক অন্যদিনকথা। ধুলো ওঠা মেঠোপথ এই আধা জঙ্গুলে জায়গাটাকে সাবধানে পাশ কাটিয়ে একেবেঁকে চলে গেছে সেই দুরে কোথাও, দৃষ্টিসীমার বাইরে। ঝরা পাতায় মৃদু সোঁদা গন্ধ, অনেকটা দীর্ঘদিন তালাবন্ধ ঘরের চৌকাঠে লেগে থাকা বাসী গন্ধের মত। ঝরা পাতায় সাবধানী পায়ের শব্দ ওঠে।ছেলেটা কালো ট্রাউজার, নীল সাদা চেক শার্ট, কোমরে নেভী ব্লু সোয়েটারটা গিঁট দিয়ে বাধা। মেয়েটা ঘন ঘাস সবুজ প্লিট স্কার্ট, সাদা সবুজ ফুলপাতা ছাপ ফুলস্লিভ টপ,তার ওপরে সামনে খোলা কালো গুজরাটি স্টিচের কাঁচ বসানো ঝলমলে স্লিভলেস জ্যাকেট। - এই বোকা, আস্তে পা ফেল, শব্দ হচ্ছে কেন? - বা রে, শুকনো পাতা তো - তবে আর মজা দেখতে হবে না - কি মজা, বল না - এইভাবে পা ফেল গবেট কোথাকার, এই আমার মত করে, জুতোটা খুলে হাতে নে না বুদ্ধু। মজা দেখার উৎসাহে পা টিপেটিপে দুজনে এগিয়ে যায় আরেকটু গাছপালার অন্ধকারে, সঙ্গোপনে। পিছনে পড়ে থাকে এক বাস বোঝাই লোকের হাসিগল্পে সচকিত রোদ্দুরমাখা পিকনিকের সবুজ মাঠ। একটু এগোতেই কিশোরীর হাত চেপে ধরে সে। ওই দ্যাখ। সামনে অদূরে নাম না জানা বুনো গাছ, ঘন বেগুনী ফুলে ভর্তি, সীমের মত দেখতে লম্বা লম্বা শুঁটি ফলও আছে। খানিক ঝরে পড়ে আছে নীচে শুকনো পাতার বুকে।তার ওপরে দাঁড়িয়ে জড়াজড়ি করা দুটি মানুষ।একই বাসে সবার সাথে পিকনিকে আসা পাড়ার অমুকদাদার সাথে তমুক পিসি।কমলালেবু রঙের হাইনেক টপের সামনের অংশটা সজোরে পিষে আছে ধূসর টিশার্টে ঢাকা চওড়া বুকে। আগ্রাসী চুমুতে ব্যস্ত দুজোড়া ঠোঁটে অশনিসঙ্কেত।বুকের মধ্যে ধুপধাপ... নিজের হার্টবিট তখন চারপাশের আপাত নিস্তব্ধতায় দামামার মত বাজছে কানে। অমুকদাদার দুঃসাহসী হাত তখন কমলালেবু ছুঁয়ে আরো বেশি কিছুর খোঁজে...অগাধ প্রশ্রয়ে তমুক পিসিও এলিয়ে পড়ে, মৃদু গোঙানী... তলপেট শিরশির করে ওঠে, কানে আগুনের হলকা, চোখ সরানো যায় না... আবাল্য সঙ্গীটি অপটু হাতে আরেকটু কাছে টেনে নেয়, থরথর করে কেঁপে ওঠে দুজনেই। শীত করে কিনা মনে নেই, তবে আরেকটু ঘন হয়ে আসে দুজনেই, আরেকটু গা ঘেঁষে। হঠাৎই অমুকদাদার মত দুহাতে বুকে জড়িয়ে নেয়, ঠোঁটের ওপর অজানা স্পর্শ, অচেনা স্বাদ।চেনা সহখেলুড়েকে বড় অচেনা লাগে, ভয় করে, বড় হয়ে যাবার ভয়,কিছু এক্টা হারিয়ে ফেলার ভয়। প্রথম ঋতুস্রাবের পর মায়ের বলা সতর্কবানী মনে পড়ে, এক ঝটকায় নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়ে সপাটে একটা থাপ্পড় মারে, তারপর রোদেভরা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে দৌড়ায়।শুকনো পাতায় আওয়াজ ওঠে,অলিঙ্গন ভেঙে ছিটকে সরে যায় দুটি শরীর। কিশোরীর তা দেখা বা জানা হয়না। মায়ের কাছে পৌঁছে হাঁপাতে থাকে। চোখ ভরে জল গড়িয়ে আসে এক দুর্বোধ্য অভিমানে।না তাকিয়েও টের পায় একজোড়া চোখের অনুনয়ভরা চাহনি। নাহ, কাউকে কোনদিন বলা হয়নি সে কথা। কোনোদিনও না। চোখ জ্বালা করে ওঠে। জানলার দিকে পিঠ করে ঘুরে দাঁড়াই। সামনে সাদা দেওয়ালে একটা গ্রুপ ফটো, হলদেটে হয়ে এসেছে, সামনে মাটির ওপর হাঁটু গেড়ে বসা হাসিমুখ এক কিশোর,কালো ট্রাউজার, নীল সাদা চেক শার্ট, পাশে অভিমানে গাল ফোলা কিশোরী, দুই বেনী,ঘন ঘাস সবুজ প্লিট স্কার্ট, সাদা,সবুজ টপ, কালো জ্যাকেট। পিকনিক শেষে শুধু সেইই আর ফেরেনি। সুবর্ণরেখার টলটলে জলে শান্তিতে ঘুমিয়ে পড়েছিল অবেলায়। সবার সাথে পংক্তিভোজনেও সে ছিল তারপর কোথায় যে একা একা চলে গেল একটা ভাঙা ডাল হাতে, কেউ খেয়াল করেনি। অভিমানী কিশোরীর নিদারুণ অভিমানই বোধহয় কাল হয়েছিল। রোজকার স্বভাবমত সেও পিছু ডাকেনি, সঙ্গ নেয়নি অন্য সব দিনের মত। পড়ন্ত বিকেলে খোঁজাখুঁজি শুরু হতে হতে সুবর্ণরেখায় ভেসে গেছিল পূর্বরাগের এক উদ্ভিন্ন বীজ অধ্যায়। আমার আর কথা বলতে ইচ্ছে করে না।কোথাও যেতে ইচ্ছে করে না আর।মনে হয় গাছ হয়ে যাচ্ছি, ছড়িয়ে যাচ্ছে আমার ডালপালা, গুচ্ছমূল,আরোহী... শিকড় দিয়ে আশ্লেষে জড়িয়ে নিচ্ছি আমার দুপুরবিলাস, আমার ভাতঘুম, আমার জলছবি কিশোরী প্রেম,আমার সব ভালোলাগা মন্দলাগাটুকু।শীতবিলাসী দ্বিপ্রাহরিক এই নিস্তব্ধতাকে বড় ভালবাসতে ইচ্ছে করে।হাই পাওয়ার চশমার সামনে ঘোলাটে হয়ে উঠে খোলা উপন্যাসের পাতা। চশমার কাঁচ মুছে নিই। কি ক্লান্তই না লাগে, মনে হয় কত যুগ যে ঘুমাই নি। অথচ, ঘুম কিন্তু আসেনা। অপেক্ষা করি দিনভোর।তারপর আমার অভিমানী সই, নির্ঘুম নিঃসঙ্গ শীতের মেঘলা আকাশ, বৃষ্টিভেজা আলসে দুপুর-কে বলি,সেই ভুলে যাওয়া দিনগুলোকে নিয়ে কেন ফিরে আসিস? |
সম্পাদকের কলমে: তাপসকিরণ রায়--
প্রেম, শব্দটা জীবনের সবচে মহা মহিম শব্দ। প্রেম ছাড়া জীবন চলে না। বহুরূপী এই প্রেম গ্রহীতার ভাষাভাব অফুরান। হাজারো রঙের মধ্যে দিয়ে আমরা এর ছটা অনুভব করতেই পারি।
প্রকৃতিও বুঝি প্রেমের ডালি সাজায়--রংবাহারে সেজে ওঠে নীলাকাশ, ভোর ও সন্ধ্যা সূর্যের লালিম রশ্মি, মাটির শস্যে সবুজ-হলুদের মেলবন্ধন, বাগবাহার ফুলের মেলা। পাখ পাখালির চহল-পহল, মাটির সোঁদা গন্ধ, নবান্ন ধানের ঘ্রাণ, এ সব মিলিয়ে, ‘সে দিনের সোনা ঝরা সন্ধ্যা’র কথা কে ভুলতে পারে !
এক টুকরো হলুদ রোদে মেখে থাকে মায়াকায়ার কামনা বাসনা। এ সব কিছুর ছোঁয়ায় তৈরী হয়ে যাচ্ছে প্রেমের ভাষা। 'ভালবাসি ভালবাসি', বসন্তের পলাশে, শিশির শেফালির ধারাপাতে বুঝি আলাপিত হয়ে যায়। আমি আছি, তাই তুমি আছো। আমার জন্যে রাখা আছে কোন রাজকন্যা। আর তোমার জন্যে রাজপুত্র। কাঠ কয়লায় পোড়া হোক না কোন দীন মজদুর, সেও কিন্তু একক এক নায়ক। কোন কাঙ্গালিনী দিন ভর অপেক্ষায় বসে থাকে তার। সেও এক মায়ের পেট থেকে জন্ম নিয়েছে ! তার মধ্যেও যে আছে স্নেহ মেহ মোহ প্রেম ভালবাসা। এই সব কিছুর মধ্যে দিয়েই জীবন সতত উৎফুল্লিত হয়ে ওঠে। পুরুষ্ট মনের আবেদন নিবেদনের স্ফূর্তি জেগে থাকে। এই লাল মাটির পথ ধরে বাউল হেঁটে চলে, মুখে তার লেগে থাকে জীবনের টানাপোড়েন গান। সুখ দুঃখ বিরহের সে গান আকাশে-বাতাসে ভেসে যায়। দেহাতী বুনো গন্ধে শরীর জেগে ওঠে, কামনার ঢেউ ওঠে পদ্মকোরকে।
প্রেম অনন্ত আবার সীমায়িত, প্রেম বিরহের বন্দিঘর। প্রেম মুক্ত, প্রেম মৌসুমী, ছলনাময়ী। বয়স ধর্মের আওতার বাইরে কখনো সে হয়ে ওঠে কালাতীত। এখানে জাতপাত নেই, অন্ধ হলেও কখনও হিংস্র। কখনো নিষ্কাম প্রকৃতিতে মাঝে খেলা খেলা চলতেই থাকে। আবার সে খেলা কখনো রহস্যময়ী হয়ে ওঠে। প্রেম সংজ্ঞাহীন অথবা বলা যায় প্রেমের কোন সংজ্ঞা নেই। প্রেম শুধুমাত্র মনের নয়, শরীরেরও বটে।
জীবনে প্রেম এক প্রধান বিন্দু। একাধারে চঞ্চল, ক্ষণস্থায়ী আবার অনন্ত ও সীমাহীন। প্রকৃতি স্পর্শে এসে যেমন এই প্রেম মাটি হাওয়া জলের সংস্পর্শে জেগে ওঠে মহীরুহ তেমনি এই লালন-পালন সোহাগ ভালোবাসা স্নেহ সব মিলেমিশে শেষ পর্যন্ত সৃষ্ট হয় এক প্রাণ। আসলে প্রাণের সৃষ্টি প্রেমের সান্নিধ্যে প্ৰসস্ফুটিত হয়ে ওঠে। এখানে প্রেম ভালোবাসা স্নেহ মেহমোহ আকর্ষণ বিকর্ষণ এ সব কিছুই মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। প্রেমের মোহমেহে একটা মেয়ে মা'য়ে রূপান্তরিত হয়। সেই মা'য়ের থেকেই সৃষ্টি হয় সন্তান। এমনি প্রেম-ভালোবাসা সূত্রেই বাধা সমস্ত পৃথিবী, বেঁচে থাকার আশে সর্বদা ঘুরে ফিরে আসে জীবনের সেই উৎস ও উপসর্গগুলি--মোহমেহ স্নেহ প্রেম ভালোবাসা।
এবার আমাদের বর্ণালোক দ্বিমাসিক ব্লগ পত্রিকা ছিল পূর্ণত বিষয়ভিত্তিক। এই সংখ্যাটি নির্দিষ্ট ভাবে আধারিত ছিল প্রেমের বিভিন্ন ধারার ওপর। লেখক লেখিকাদের কাছ থেকে আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। এ ব্যাপারে পাঠকও নিরপেক্ষ মতামত দিয়ে আমাদের আরও সমৃদ্ধ করুন।
সম্পাদকের কলমে: শমিত কর্মকার--
মানুষের ব্যাপ্তি যেমন সর্বত্র। কেউ কবিতাকে ভালোবাসে আবার কিছু সংখ্যক মানুষ গল্প ভালোবাসে। তাই লেখক লেখিকারা এখন সর্বত্রই বিরাজমান। পাঠকদের উপরে লেখকের সাফল্য নির্ভর করে। একজন পাঠকই একজন লেখককে খুব করে চিনতে পারে। তাই লেখকের কাছে পাঠকরাই সম্পদ। আমরা তাই সবাইকে চাই। আমরা তাই প্রত্যেক সংখ্যায় বলছি, আপনারা বিশেষ করে পাঠকরা কিছু মতামত দিন। শুধুমাত্র লাইক নয়। ভালোকে ভালো, খারাপকে নির্দ্বিধায় খারাপ বলুন। আপনারা, লেখক পাঠক নির্বিশেষে সবাই আরও বেশি বেশি লেখা পাঠান। সম্পাদক চাইছেন ওয়েব থেকে লেখা নিয়ে তাকে ছাপার অক্ষরে রূপ দিতে। কিন্তু সেটা করতে আমাদের আরও সময় লাগবে। আপনারা আমাদের সাথে থাকলে সহযোগিতার হাত বাড়ালে নিশ্চিত সেটা আমরা পারব।
সম্পাদকের কলমে: সাবিত্রী দাস--
"লাখ লাখ যুগ হিয়ে হিয়ে
রাখনু তবু হিয়ে জুড়ন না গেল। "
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেমের নিদর্শন তো রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা। সে প্রেমের মহাকাব্য তো প্রতিটি মানুষের প্রাণের মাঝে অনুরণিত হয়ে আসছে আবহমানের চিরন্তন সত্য হিসাবে। প্রেমের পাত্র পাত্রী অর্থাৎ নায়ক নায়িকার মনোভাব ঠিক কেমন! প্রেমের স্বরূপটিই বা কেমন জানতে গেলে বৈষ্ণব পদাবলীর পদকর্তাদের কথাই সর্বাগ্রে মনে পড়ে।
উপরোক্ত পদ বিদ্যাপতির রচনা। নবোদ্গমের কিশলয় যেন সেই প্রেম, হাস্যকৌতুকে, লাস্যে, আবেশ মূর্চ্ছনায় সেই প্রেম আনন্দোচ্ছ্বাসে পরিপূর্ণ, প্রেমের হিল্লোলে শিহরিত তনু মন নব নব সুখ- মূর্চ্ছনায় মুখরিত !
তাহলে প্রেম কী শুধুমাত্র সুখের পরশপাথর ছুঁয়ে বসলো আর সব আলোয় আলোময় ! দুঃখ নাই বেদনা নাই, নাই কোন সন্তাপ।
যদি তাই সত্য হয় তবে এ আক্ষেপ কেন! কেন মনে অতৃপ্তির হাহাকার ! এত উন্মাদনা, হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের মিলনের পরেও হৃদয় জ্বালা জুড়িয়ে যাচ্ছে না কেন ! এতকিছুর পরও গভীর অতৃপ্তির সঞ্চার অনুভূত হয় কেন !
প্রেম তাহলে কী?
বড়ো রহস্যময় আর গভীর এ প্রশ্ন থেকেই যায়। মানব মনের চিরন্তন ভাবনায় উদ্বেলিত হৃদয়, প্রেম কে কখনো স্বর্গীয় ভেবেছে, কখনো আবার প্রেমকে নিয়ে এসেছে আপন অঙ্গনে। মনের মাধুরী মিশিয়ে নিবিড় প্রেম দিয়ে রচনা করেছে আপন স্বর্গ। সুখ খুঁজে পেতে চেয়েছে সেই স্বর্গে।
প্রেম তাহলে কী !
সাধারণ ভাবে নরনারীর প্রেমের কথাই যদি ধরা যায়, পরস্পরের প্রতি ভালোলাগা আর ভালোবাসা বুকের ভেতর যে আলোড়ন সৃষ্টি করে সেটাই হয়তো প্রেম ! সহ্য হয় না ভৌগোলিক দূরত্বের সীমা। বেদনা দীর্ণ অন্তরে অনুভূত যাতনা, বিরহ বেদনা মানুষকে আকুল করে তোলে। বিরহ ব্যাকুল সন্তপ্ত হৃদয় আপন করে কাছে পেতে চায় দয়িত বা দয়িতাকে, এটাই স্বাভাবিক জীবনে ঘটে থাকে। তাহলে প্রেম পূর্ণতা পেল বলা যেতেই পারে।
'প্রেম অবিনশ্বর, প্রেম অক্ষয় অব্যয়, প্রেম অজেয়, প্রেম অমর।'
অথচ বাস্তব জীবনের চাওয়া পাওয়ার ঠুনকো আঘাতে চূরমার হয়ে ভেঙে যাচ্ছে সাধের সেই প্রেমময় স্বর্গ। সব ক্ষেত্রে হয়তো নয় তবুও অনিবার্য বিচ্ছেদের পরাকাষ্ঠা ছাড়িয়ে যাচ্ছে পরিসংখ্যান ।
প্রেমের বিরহ মিলন নিয়ে রচিত হয়েছে কতনা কাব্যগাথা, কত কাব্যিক উপমার ব্যবহার ছড়ানো বৈষ্ণব পদাবলীর পদকর্তাদের সময় থেকে আজও অব্যাহত।
আধুনিক বিজ্ঞান বলে মানুষের প্রেমানুভূতির জন্য দায়ী কতকগুলো বিশেষ রাসায়নিক। পিটুইটারি গ্রন্থির থেকে উৎপন্ন ডোপামিন নামক রাসায়নিক যার প্রভাবে প্রেমে পড়ার যাবতীয় আনুষঙ্গিক ঘটনা ঘটে থাকে। এর সঙ্গে সহযোগিতা করতে থাকে অক্সিটোসিন এবং ভেসোপ্রেসিন নামক হরমোন গুলি। এই রাসায়নিক গুলির প্রভাবেই প্রেমের আবেগ অনুভূতি, আকুলতা, তীব্র মিলনেচ্ছা প্রকাশ পায়।
আবার এই হরমোন লেভেলের প্রাবল্য কমতে থাকলে প্রেমের অনুভূতি আকুলতাও কমতে থাকে ক্রমশ। এখানেও কাজ করে যে রাসায়নিকের ম্যাজিক তার নাম এণ্ডোরফিন। এই রাসায়নিকটি সন্তুষ্টি লাভের জন্য দায়ী। মন কানায় কানায় পূর্ণ করে দেওয়ার কাজটি করে থাকে এই হরমোন। এই পর্যায়ে তাই প্রেমের তীব্র আবেগ প্রশমিত, স্থির শান্ত জীবনের পরিপূর্ণ প্রশান্তি।
আসে পারস্পরিক নির্ভর শীলতা যা তৈরী হয় মূলত একসঙ্গে পাশাপাশি বসবাস করার কারণে। তখন গড়ে ওঠে এক সহমর্মিতার মনোভাব বা সম্পর্ক। দায়িত্ব আর কর্তব্য পালনের দায়বদ্ধতা।
এসব বিশদে বলতে গেলে বিশাল এক অধ্যায়।
বিজ্ঞান যাই ব্যাখ্যা করুক না কেন, প্রেমে পড়তে প্রেমের প্রাসাদ গড়তে কিংবা প্রেমের কবিতা আর গল্প লিখতে বাদ সাধেনি যখন প্রেমের গল্পই না হয় হোক না কেন আজকের প্রধান উপজীব্য ।
Thursday, 4 March 2021
মিত্রাণী আদক
-
ছন্দ হারা প্রেরণা বড়াল --------------------------- আহ্লাদীর চালঢাল আমাদের কারোরই তেমন ভাল লাগত না। মনে হত একটু বেশিই আহ্লাদ । ওর ঢং দেখ...
No comments:
Post a Comment