|
চুলবুলি প্রেমের গল্প স্মৃতি শেখর মিত্র যার জীবনে কখনও প্রেম আসেনি সে আবার প্রেমের কিবা জানে! কিন্তু সেই প্রসঙ্গেই লিখতে বলা হয়েছে তাই লেখা। ঝাড়খণ্ডের বাঘমারা মহকুমা শহরে আমরা চারভাই কর্মসূত্রে থাকি। আমি ও আমার তিন জন পিসতুতো ভাই।সবাই ভারত কোকিং কোল লিমিটেডে কাজ করি। চারজনার মধ্যে আমরা তিনজন প্রায় সমবয়সী এবং একজন আমাদের থেকে বছর দশেকের বড়। তিনিই আমাদের অভিভাবক । আমরা যে বাড়িতে মেস করে আছি তার মালিক কে বা কোথায় থাকেন তাও জানিনা বা জানার প্রয়োজন মনে করিনি। পরপর দুটি পার্টিশন দেওয়া বাড়ি একটাই ছাদ। বেশ বোঝা যায় বাড়িটি ভাড়া খাটানোর জন্যই বানানো হয়েছে। দুটি বাড়িতে একটিই বিরাট উঠান , আমাদের দিকের উঠানে একটি বিশাল নিমগাছ। নিমগাছ থেকে সামান্য দূরে একটা বড় কূয়া। কূয়ার জলই আমাদের একমাত্র ভরসা। অবশ্য কূয়াটিতে বারমাস জল থাকে যার জন্য খুব একটা অসুবিধা হয় না। পাশে যিনি থাকেন তিনি একজন ঠিকাদার। উত্তরপ্রদেশের ব্রাহ্মণসন্তান। ডাকাত অধ্যুষিত জেলা এটোয়া জেলার অধিবাসী এবং বর্তমানে ভারত কোকিং কোল লিমিটেডের একজন পেটি ঠিকাদার। তিনি তাঁর স্ত্রী ও পাঁচটি সন্তানকে নিয়ে থাকেন পাশের বাড়িতে ভাড়ায়। তাঁর বড় মেয়ে রঞ্জনা। তার বয়স ষোল বছর ,সদ্য যৌবনে পা দিয়েছে। বাকি চার ভাই বোন ওর থেকে ছোট।মিশ্রাজী মানুষ ভালো, কিন্তু তিনি অতিশয় মদ্যপায়ী হওয়ার জন্য সংসারে যে অভাব আছে বেশ বোঝা যায়। আমরা তিনজন মোটামুটি সকলে পঁচিশ বছরের আশেপাশে। মিশ্রাজী আমাদের প্রতিদিন বিকেলে তাঁর বাড়িতেতাস খেলার জন্য ডাকতেন। আমি তাস খেলার ব্যাপারে সেরকম কিছু জানতাম না। মিশ্রাজী পার্টনার হিসেবে বরাবর আমাদের দাদাকে বেছে নিতেন । আমাদের বাকি দুজন অন্য পার্টিতে থাকতেন। আমি ওদের খেলা দেখতাম। উৎসাহ দিতাম। আমাদের খেলা চলাকালীন মিশ্রাজীর বড়মেয়ে রঞ্জনা বারবার ওখানেই ঘোরাফেরা করতো কাজে এবং অকাজে। আমি ঠিক বুঝতে পারতাম না ব্যাপারটা কি? একদিন দুপুরে যখন ওর বাবা বাড়িতে ছিল না এবং ওর মা বাকি বাচ্চাদের নিয়ে ভাতঘুম দিচ্ছেন। সে সময় রঞ্জনা দেখি দড়ি বালতী নিয়ে কূয়া থেকে জল তুলছে কিম্বা জল তোলার ভান করছে এবং নানান রকম ইশারা করছে আমাদের রুমের দিকে তাকিয়ে। বুঝতে পারি ও ইশারায় সাধনকে ডাকছে। সাধন বেরিয়ে যেতেই দেখি সাধন ওকে নিমগাছে টাঙ্গানো দোলনায় দোল খাওয়াচ্ছে।আর নিম গাছের ওপরে চড়ে আছে একটি মেয়ে ওর বয়সীই হবে সাধন ওকে বোধহয় তখনও দেখেনি তাই যখন রঞ্জনা ওপরের দিকে হাসতে হাসতে তাকালো তখন সে দেখলো গাছের ডালে পা ঝুলিয়ে বসে আছে রঞ্জনার বান্ধবী দীপা। সাধন এ যাত্রায় খুব জোর বেঁচে গেছে। ও আর একটু হলেই দোল খাওয়ানোর সময় রঞ্জনাকে জড়িয়ে ধরে চুমু খেতে যাচ্ছিল কিন্তু নেহাৎ রঞ্জনার চাতুরীতে দীপাকে দেখে ফেলায় সে কাজটি আর করে ওঠা হয়নি।ওরা এমনিতে খুব রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে। একথা পাঁচ কান হয়ে গেলে রেহাই থাকতোনা। আমাদের ঐ বাড়িতে টেকা দায় হতো। হয়তো বা মারপিটও হয়ে যেত। তখন কিন্তু কেউ ভাবতো না যে রঞ্জনা সমান দোষে দোষী। সমস্ত দোষ এসে পড়তো সাধনের ঘাড়ে। যাইহোক, প্রেম কিন্তু মানুষকে সাহসী বানিয়ে দেয়। যতই বাধা বিঘ্ন আসুক কিছুই ওদের কাছে বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। ওদের দুজনার ক্ষেত্রেও তাই হলো। আমাদের বাড়ির অদূরেই একটি বিশাল মাঠ সেখানে প্রতি বছর রথের সময় মেলা বসে। এবং আশেপাশের কলিয়ারীর মানুষজন ভিড় করে মেলা দেখতে আসে। আমি আর সাধনও মেলায় যাওয়া ঠিক করলাম। চারদিকে মানুষে মানুষে ছয়লাপ। নানান ধরনের দোকান বসেছে। একটি নাগরদোলা ।মাইকে সবসময় চটুল হিন্দি গান বাজছে এবং মানুষের মনে গভীর আনন্দের ছোঁয়া লেগেছে। দূর দূর থেকে অনেকে এসেছে তাদের নানান ধরনের পশরা সাজিয়ে। তাঁবু খাটিয়ে রয়েছে অনেকে। আবার দুটো ইট দিয়ে আগুন জ্বালিয়ে গরম গরম চা চপ, সিঙ্গাড়া, জিলিপির দোকান দিয়েছে।সাধনকে দেখলাম অনেকক্ষণ ধরেই উসখুস করছে। আমরা যখন একটি দোকানে বসে চা ও গরম গরম চপ ভাজা খাচ্ছি তখন দেখি রঞ্জনা তার বান্ধবী দীপাকে নিয়ে মেলায় আসছে। আমাকে কিছু না বলেই সাধন ওদের কাছে এগিয়ে গেল। আমি সাধনের চাঞ্চল্যের কারণটা এখন বুঝতে পারলাম। এসব ব্যাপারে মেয়েরা কিন্তু খুব চতুর হয়। সাধন ওদের দুই বান্ধবীদের নিয়ে একটি চুড়ির দোকানে ঢুকে ওদের দুজনকে অনেক ধরনের, রঙ বেরঙের কাঁচের চুড়ি কিনে দিচ্ছে দেখলাম। আমি ওদের প্রেমের মধ্যে থাকতে না চেয়ে ওখান থেকে সরে পড়লাম। প্রেমের জন্য রথের মেলা, দোল উৎসব এসব তো লেগেই থাকবে। সমাপ্ত |
সম্পাদকের কলমে: তাপসকিরণ রায়--
প্রেম, শব্দটা জীবনের সবচে মহা মহিম শব্দ। প্রেম ছাড়া জীবন চলে না। বহুরূপী এই প্রেম গ্রহীতার ভাষাভাব অফুরান। হাজারো রঙের মধ্যে দিয়ে আমরা এর ছটা অনুভব করতেই পারি।
প্রকৃতিও বুঝি প্রেমের ডালি সাজায়--রংবাহারে সেজে ওঠে নীলাকাশ, ভোর ও সন্ধ্যা সূর্যের লালিম রশ্মি, মাটির শস্যে সবুজ-হলুদের মেলবন্ধন, বাগবাহার ফুলের মেলা। পাখ পাখালির চহল-পহল, মাটির সোঁদা গন্ধ, নবান্ন ধানের ঘ্রাণ, এ সব মিলিয়ে, ‘সে দিনের সোনা ঝরা সন্ধ্যা’র কথা কে ভুলতে পারে !
এক টুকরো হলুদ রোদে মেখে থাকে মায়াকায়ার কামনা বাসনা। এ সব কিছুর ছোঁয়ায় তৈরী হয়ে যাচ্ছে প্রেমের ভাষা। 'ভালবাসি ভালবাসি', বসন্তের পলাশে, শিশির শেফালির ধারাপাতে বুঝি আলাপিত হয়ে যায়। আমি আছি, তাই তুমি আছো। আমার জন্যে রাখা আছে কোন রাজকন্যা। আর তোমার জন্যে রাজপুত্র। কাঠ কয়লায় পোড়া হোক না কোন দীন মজদুর, সেও কিন্তু একক এক নায়ক। কোন কাঙ্গালিনী দিন ভর অপেক্ষায় বসে থাকে তার। সেও এক মায়ের পেট থেকে জন্ম নিয়েছে ! তার মধ্যেও যে আছে স্নেহ মেহ মোহ প্রেম ভালবাসা। এই সব কিছুর মধ্যে দিয়েই জীবন সতত উৎফুল্লিত হয়ে ওঠে। পুরুষ্ট মনের আবেদন নিবেদনের স্ফূর্তি জেগে থাকে। এই লাল মাটির পথ ধরে বাউল হেঁটে চলে, মুখে তার লেগে থাকে জীবনের টানাপোড়েন গান। সুখ দুঃখ বিরহের সে গান আকাশে-বাতাসে ভেসে যায়। দেহাতী বুনো গন্ধে শরীর জেগে ওঠে, কামনার ঢেউ ওঠে পদ্মকোরকে।
প্রেম অনন্ত আবার সীমায়িত, প্রেম বিরহের বন্দিঘর। প্রেম মুক্ত, প্রেম মৌসুমী, ছলনাময়ী। বয়স ধর্মের আওতার বাইরে কখনো সে হয়ে ওঠে কালাতীত। এখানে জাতপাত নেই, অন্ধ হলেও কখনও হিংস্র। কখনো নিষ্কাম প্রকৃতিতে মাঝে খেলা খেলা চলতেই থাকে। আবার সে খেলা কখনো রহস্যময়ী হয়ে ওঠে। প্রেম সংজ্ঞাহীন অথবা বলা যায় প্রেমের কোন সংজ্ঞা নেই। প্রেম শুধুমাত্র মনের নয়, শরীরেরও বটে।
জীবনে প্রেম এক প্রধান বিন্দু। একাধারে চঞ্চল, ক্ষণস্থায়ী আবার অনন্ত ও সীমাহীন। প্রকৃতি স্পর্শে এসে যেমন এই প্রেম মাটি হাওয়া জলের সংস্পর্শে জেগে ওঠে মহীরুহ তেমনি এই লালন-পালন সোহাগ ভালোবাসা স্নেহ সব মিলেমিশে শেষ পর্যন্ত সৃষ্ট হয় এক প্রাণ। আসলে প্রাণের সৃষ্টি প্রেমের সান্নিধ্যে প্ৰসস্ফুটিত হয়ে ওঠে। এখানে প্রেম ভালোবাসা স্নেহ মেহমোহ আকর্ষণ বিকর্ষণ এ সব কিছুই মিলেমিশে একাকার হয়ে যায়। প্রেমের মোহমেহে একটা মেয়ে মা'য়ে রূপান্তরিত হয়। সেই মা'য়ের থেকেই সৃষ্টি হয় সন্তান। এমনি প্রেম-ভালোবাসা সূত্রেই বাধা সমস্ত পৃথিবী, বেঁচে থাকার আশে সর্বদা ঘুরে ফিরে আসে জীবনের সেই উৎস ও উপসর্গগুলি--মোহমেহ স্নেহ প্রেম ভালোবাসা।
এবার আমাদের বর্ণালোক দ্বিমাসিক ব্লগ পত্রিকা ছিল পূর্ণত বিষয়ভিত্তিক। এই সংখ্যাটি নির্দিষ্ট ভাবে আধারিত ছিল প্রেমের বিভিন্ন ধারার ওপর। লেখক লেখিকাদের কাছ থেকে আমরা ভালো সাড়া পেয়েছি। এ ব্যাপারে পাঠকও নিরপেক্ষ মতামত দিয়ে আমাদের আরও সমৃদ্ধ করুন।
সম্পাদকের কলমে: শমিত কর্মকার--
মানুষের ব্যাপ্তি যেমন সর্বত্র। কেউ কবিতাকে ভালোবাসে আবার কিছু সংখ্যক মানুষ গল্প ভালোবাসে। তাই লেখক লেখিকারা এখন সর্বত্রই বিরাজমান। পাঠকদের উপরে লেখকের সাফল্য নির্ভর করে। একজন পাঠকই একজন লেখককে খুব করে চিনতে পারে। তাই লেখকের কাছে পাঠকরাই সম্পদ। আমরা তাই সবাইকে চাই। আমরা তাই প্রত্যেক সংখ্যায় বলছি, আপনারা বিশেষ করে পাঠকরা কিছু মতামত দিন। শুধুমাত্র লাইক নয়। ভালোকে ভালো, খারাপকে নির্দ্বিধায় খারাপ বলুন। আপনারা, লেখক পাঠক নির্বিশেষে সবাই আরও বেশি বেশি লেখা পাঠান। সম্পাদক চাইছেন ওয়েব থেকে লেখা নিয়ে তাকে ছাপার অক্ষরে রূপ দিতে। কিন্তু সেটা করতে আমাদের আরও সময় লাগবে। আপনারা আমাদের সাথে থাকলে সহযোগিতার হাত বাড়ালে নিশ্চিত সেটা আমরা পারব।
সম্পাদকের কলমে: সাবিত্রী দাস--
"লাখ লাখ যুগ হিয়ে হিয়ে
রাখনু তবু হিয়ে জুড়ন না গেল। "
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রেমের নিদর্শন তো রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা। সে প্রেমের মহাকাব্য তো প্রতিটি মানুষের প্রাণের মাঝে অনুরণিত হয়ে আসছে আবহমানের চিরন্তন সত্য হিসাবে। প্রেমের পাত্র পাত্রী অর্থাৎ নায়ক নায়িকার মনোভাব ঠিক কেমন! প্রেমের স্বরূপটিই বা কেমন জানতে গেলে বৈষ্ণব পদাবলীর পদকর্তাদের কথাই সর্বাগ্রে মনে পড়ে।
উপরোক্ত পদ বিদ্যাপতির রচনা। নবোদ্গমের কিশলয় যেন সেই প্রেম, হাস্যকৌতুকে, লাস্যে, আবেশ মূর্চ্ছনায় সেই প্রেম আনন্দোচ্ছ্বাসে পরিপূর্ণ, প্রেমের হিল্লোলে শিহরিত তনু মন নব নব সুখ- মূর্চ্ছনায় মুখরিত !
তাহলে প্রেম কী শুধুমাত্র সুখের পরশপাথর ছুঁয়ে বসলো আর সব আলোয় আলোময় ! দুঃখ নাই বেদনা নাই, নাই কোন সন্তাপ।
যদি তাই সত্য হয় তবে এ আক্ষেপ কেন! কেন মনে অতৃপ্তির হাহাকার ! এত উন্মাদনা, হৃদয়ের সঙ্গে হৃদয়ের মিলনের পরেও হৃদয় জ্বালা জুড়িয়ে যাচ্ছে না কেন ! এতকিছুর পরও গভীর অতৃপ্তির সঞ্চার অনুভূত হয় কেন !
প্রেম তাহলে কী?
বড়ো রহস্যময় আর গভীর এ প্রশ্ন থেকেই যায়। মানব মনের চিরন্তন ভাবনায় উদ্বেলিত হৃদয়, প্রেম কে কখনো স্বর্গীয় ভেবেছে, কখনো আবার প্রেমকে নিয়ে এসেছে আপন অঙ্গনে। মনের মাধুরী মিশিয়ে নিবিড় প্রেম দিয়ে রচনা করেছে আপন স্বর্গ। সুখ খুঁজে পেতে চেয়েছে সেই স্বর্গে।
প্রেম তাহলে কী !
সাধারণ ভাবে নরনারীর প্রেমের কথাই যদি ধরা যায়, পরস্পরের প্রতি ভালোলাগা আর ভালোবাসা বুকের ভেতর যে আলোড়ন সৃষ্টি করে সেটাই হয়তো প্রেম ! সহ্য হয় না ভৌগোলিক দূরত্বের সীমা। বেদনা দীর্ণ অন্তরে অনুভূত যাতনা, বিরহ বেদনা মানুষকে আকুল করে তোলে। বিরহ ব্যাকুল সন্তপ্ত হৃদয় আপন করে কাছে পেতে চায় দয়িত বা দয়িতাকে, এটাই স্বাভাবিক জীবনে ঘটে থাকে। তাহলে প্রেম পূর্ণতা পেল বলা যেতেই পারে।
'প্রেম অবিনশ্বর, প্রেম অক্ষয় অব্যয়, প্রেম অজেয়, প্রেম অমর।'
অথচ বাস্তব জীবনের চাওয়া পাওয়ার ঠুনকো আঘাতে চূরমার হয়ে ভেঙে যাচ্ছে সাধের সেই প্রেমময় স্বর্গ। সব ক্ষেত্রে হয়তো নয় তবুও অনিবার্য বিচ্ছেদের পরাকাষ্ঠা ছাড়িয়ে যাচ্ছে পরিসংখ্যান ।
প্রেমের বিরহ মিলন নিয়ে রচিত হয়েছে কতনা কাব্যগাথা, কত কাব্যিক উপমার ব্যবহার ছড়ানো বৈষ্ণব পদাবলীর পদকর্তাদের সময় থেকে আজও অব্যাহত।
আধুনিক বিজ্ঞান বলে মানুষের প্রেমানুভূতির জন্য দায়ী কতকগুলো বিশেষ রাসায়নিক। পিটুইটারি গ্রন্থির থেকে উৎপন্ন ডোপামিন নামক রাসায়নিক যার প্রভাবে প্রেমে পড়ার যাবতীয় আনুষঙ্গিক ঘটনা ঘটে থাকে। এর সঙ্গে সহযোগিতা করতে থাকে অক্সিটোসিন এবং ভেসোপ্রেসিন নামক হরমোন গুলি। এই রাসায়নিক গুলির প্রভাবেই প্রেমের আবেগ অনুভূতি, আকুলতা, তীব্র মিলনেচ্ছা প্রকাশ পায়।
আবার এই হরমোন লেভেলের প্রাবল্য কমতে থাকলে প্রেমের অনুভূতি আকুলতাও কমতে থাকে ক্রমশ। এখানেও কাজ করে যে রাসায়নিকের ম্যাজিক তার নাম এণ্ডোরফিন। এই রাসায়নিকটি সন্তুষ্টি লাভের জন্য দায়ী। মন কানায় কানায় পূর্ণ করে দেওয়ার কাজটি করে থাকে এই হরমোন। এই পর্যায়ে তাই প্রেমের তীব্র আবেগ প্রশমিত, স্থির শান্ত জীবনের পরিপূর্ণ প্রশান্তি।
আসে পারস্পরিক নির্ভর শীলতা যা তৈরী হয় মূলত একসঙ্গে পাশাপাশি বসবাস করার কারণে। তখন গড়ে ওঠে এক সহমর্মিতার মনোভাব বা সম্পর্ক। দায়িত্ব আর কর্তব্য পালনের দায়বদ্ধতা।
এসব বিশদে বলতে গেলে বিশাল এক অধ্যায়।
বিজ্ঞান যাই ব্যাখ্যা করুক না কেন, প্রেমে পড়তে প্রেমের প্রাসাদ গড়তে কিংবা প্রেমের কবিতা আর গল্প লিখতে বাদ সাধেনি যখন প্রেমের গল্পই না হয় হোক না কেন আজকের প্রধান উপজীব্য ।
Thursday, 4 March 2021
স্মৃতি শেখর মিত্র
-
ছন্দ হারা প্রেরণা বড়াল --------------------------- আহ্লাদীর চালঢাল আমাদের কারোরই তেমন ভাল লাগত না। মনে হত একটু বেশিই আহ্লাদ । ওর ঢং দেখ...
No comments:
Post a Comment